জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর:
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায়ের সকল দায় কে বহন করে?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায়ের সকল দায় মালিক নিজে বহন করেন।
প্রশ্ন: অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন কত জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ২ জন ও সর্বাধিক ২০ জন। তবে ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা ১০ জনের অধিক হতে পারে না।
প্রশ্ন: কোন ব্যবসায়কে প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন বলা হয়?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায়কে প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন বলা হয়।
প্রশ্ন: মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায়কে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
উত্তর: মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা একমালিকানা ব্যবসায়, অংশীদারি ব্যবসায়, যৌথ মূলধনী ব্যবসায়, সমবায় সমিতি, রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়।
প্রশ্ন: ইউরোপ ও আমেরিকায় শতকরা কত ভাগ ব্যবসায় একমালিকানার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে?
উত্তর: ইউরোপ ও আমেরিকায় শতকরা ৮০ ভাগ ব্যবসায় একমালিকানার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কীসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্ন: অংশীদারি ব্যবসায় কত সালের আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়?
উত্তর: অংশীদারি ব্যবসায় ১৯৩২ সালের আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন: যৌথ মূলধনী ব্যবসায় কীসের মাধ্যমে গঠিত ও পরিচালিত হয়?
উত্তর: যৌথ মূলধনী ব্যবসায় আইনের মাধ্যমে গঠিত ও পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন: যৌথ মূলধনী ব্যবসায় কত সালের আইন দ্বারা গঠিত হয়?
উত্তর: যৌথ মূলধনী ব্যবসায় ১৯৯৪ সালের আইন দ্বারা গঠিত হয়।
প্রশ্ন: প্রাইভেট লি. কোম্পানির সর্বনিæ ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত?
উত্তর: প্রাইভেট লি. কোম্পানির সর্বনি দস্য সংখ্যা হলো ২ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা হলো ৫০ জন।
প্রশ্ন: বিশ্বে সর্বপ্রথম কোন সমবায় সমিতি গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: বিশ্বে সর্বপ্রথম রচডেল সমবায় সমিতি গঠিত হয়েছিল?
প্রশ্ন: বাংলাদেশে সমবায় সমিতি কত সালের আইন দ্বারা গঠিত হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে সমবায় সমিতি ২০০১ সালের আইন দ্বারা গঠিত হয়।
প্রশ্ন: আইনানুযায়ী সমবায় সমিতির ধরন কত প্রকার?
উত্তর: আইনানুযায়ী সমবায় সমিতির ধরন তিন প্রকার। যথাÑপ্রাথমিক সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও জাতীয় সমবায় সমিতি।
প্রশ্ন: সমবায় সমিতি কোন নীতির আলোকে উৎপত্তি হয়েছিল?
উত্তর: সমবায় সমিতি একতাই বল এই নীতির আলোকে উৎপত্তি হয়েছিল।
প্রশ্ন: সরকার কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে কী বলে?
উত্তর: সরকার কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
প্রশ্ন: পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের উৎপাদন, বণ্টন এবং এদের সহায়ক কার্যাবলিকে কী বলে?
উত্তর: পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের উৎপাদন, বণ্টন এবং এদের সহায়ক কার্যাবলিকে ব্যবসায় বলে।
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায় করতে হলে কোথা থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায় করতে হলে পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
প্রশ্ন: আমাদের দেশে অধিকাংশ ব্যবসায় সংগঠন কীসের ভিত্তিতে গঠিত হয়?
উত্তর: আমাদের দেশে অধিকাংশ ব্যবসায় সংগঠন একক মালিকানার ভিত্তিতে গঠিত হয়।
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায়ে লাভÑলোকসান বহন করে কে?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায়ে লাভÑলোকসান বহন করে মালিক।
প্রশ্ন: কীসের দৃষ্টিতে একমালিকানা ব্যবসায়ের পৃথক সত্তা নেই?
উত্তর: আইনের দৃষ্টিতে একমালিকানা ব্যবসায়ের পৃথক সত্তা নেই।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ব্যবসায় সংগঠনের শতকরা কত ভাগ একমালিকানার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ব্যবসায় সংগঠনের শতকরা ৮০ ভাগ একমালিকানার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর:
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায় বলতে কী বোঝ?
উত্তর: মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে যখন কোনো ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে মূলধন যোগাড় করে কোনো ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করে এবং উক্ত ব্যবসায়ে অর্জিত সকল লাভ নিজে ভোগ করে বা ক্ষতি হলে নিজেই তা পূরণ করে তখন তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
প্রশ্ন: একমালিকানা ব্যবসায় সহজে গঠন করা যায় কেন?
উত্তর: একমালিকানা ব্যবসায় সাধারণত ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে থাকে। স্বল্প মূলধন নিয়ে এ জাতীয় ব্যবসায় গঠন করা যায়। মালিক নিজেই এ মূলধন যোগান দেন। সাধারণত নিজস্ব সঞ্চয় ও প্রয়োজনে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মালিক ব্যবসায় গঠন করেন। এছাড়া আইনগত ঝামেলা না থাকায় যেÑকেউ ইচ্ছা করলে ও উদ্যোগ নিয়ে গ্রামেগঞ্জে, হাটবাজারে বা রাস্তার পাশে কিংবা নিজ বাড়িতে এ ব্যবসায় শুরু করতে পারেন। সুতরাং একমালিকানা ব্যবসায় গঠন করা সহজ।
প্রশ্ন: চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলতে কী বোঝ?
উত্তর: অংশীদারি ব্যবসায়ে চুক্তির মাধ্যমে মূলধন সরবরাহ, লাভÑলোকসান বণ্টন ও ব্যবসায় পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাকে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলে। চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কে অংশীদারি ব্যবসায়ে অংশীদারদের মধ্যকার একটি চুক্তির ফল। চুক্তির মাধ্যমেই এর সৃষ্টি। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। এ চুক্তি মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে মামলামোকদ্দমা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
প্রশ্ন: অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত হলেও কোনো আইনগত সত্ত¡ার সৃষ্টি হয় না। ফলে ব্যবসায় নিজস্ব নামে পরিচালিত হতে পারে না। এ ব্যবসায়ের সকল লেনদেন অংশীদারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে হয়েছে বলে ধরা হয়। পৃথক আইনগত সত্তা না থাকায় এ ব্যবসায়ের অস্তিত্ব অংশীদারদের ইচ্ছাÑঅনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনে এরূপ ব্যবসায়ের নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়ের চেয়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে থাকে।
প্রশ্ন: পাবলিক লি. কোম্পানি বলতে কী বোঝ?
উত্তর: পাবলিক লি. কোম্পানি বলতে আইনের অধীনে পাবলিক লি. কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত সেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যা কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ সাত এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা স্মারকলিপিতে বর্ণিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ রাখে। যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং যা কোম্পানি আইনের কড়াকড়ি অনুসরণের মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন: কোন কোন ব্যবসায় একমালিকানা ব্যবসায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে?
উত্তর: যে সকল ব্যবসায়ে অল্প পুঁজির প্রয়োজন, সীমিত চাহিদা, খুচরাপণ্য, পচনশীল পণ্য, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রয়োজন, ভ্রাম্যমান ব্যবসায় ইত্যাদি একমালিকানা ব্যবসায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। যেমনÑ বিড়ির দোকান, তড়িতরকারির দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান, মনোহারির দোকান, ফলমূল, শাকসবজি, মাছÑমাংসের দোকান, ফটো তোলার ব্যবসায়, স্বর্ণকারের দোকান ইত্যাদি।
প্রশ্ন: অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: অংশীদারি চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের অবসানকে বিলোপসাধন বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হচ্ছে অংশীদারদের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিবদ্ধ সব সম্পর্ক ও ব্যবসায়ের অবসান। অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন সম্পর্কে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩৯ নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সব অংশীদারের মধ্যে অংশীদারি সম্পর্কের পরিসমাপ্তিকে প্রতিষ্ঠানের বিলোপসাধন বলে। বিভিন্ন কারণে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হয়ে থাকে। যেমনÑ সকলে একমত হয়ে, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, বিশেষ কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত, বাধ্যতামূলক ও আদালতের আদেশ অনুসারে।
প্রশ্ন: অংশীদারি ব্যবসায়ের বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: অংশীদারি ব্যবসায়ের বিভিন্ন কারণে বিলোপসাধন করা যায়। এর মধ্যে একটি কারণহচ্ছে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন। অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার বা একজন ছাড়া বাকি সবাই দেউলিয়া ঘোষিত হলে অথবা কোনো বিশেষ কারণে বা আইন প্রণয়ন করে ব্যবসায়ের কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করা হলে তখন যে বিলোপসাধন ঘটানো হয় তাই বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০১
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
খুলনা শহরের সন্নিকটেই করিম মিয়ার বাড়ি। স্থানীয় বাজার অনেক দূরে হওয়ায় করিম মিয়া নিজেই স্বল্প ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি সবজির দোকান স্থাপন করলেন। একমাত্র দোকান হওয়ায় সবুজ মিয়ার ব্যবসায়টিতে গ্রাহক বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় করিম মিয়া একজন কর্মচারী নিয়োগ করলেন।
ক. বাংলাদেশের সমবায় সমিতি আইন কত সালের প্রতিষ্ঠিত হয়?
খ. সমবায় সংগঠন গড়ে ওঠার কারণ লেখ।
গ. মালিকানার ভিত্তিতে করিম মিয়ার ব্যবসায়টির ধরন ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ক্ষেত্র অনুযায়ী তুমি কী মনে করো করিম মিয়ার ব্যবসায়টি সবচেয়ে জনপ্রিয়? মতামত দাও।
উত্তর ক: বাংলাদেশের সমবায় সমিতি আইন ২০০১ সালের।
উত্তর খ: পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দেখা দেয়। স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে। পুঁজিবাদী সমাজের সৃষ্ট এ জাতীয় অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দূরবস্থা থেকে মুক্তির প্রয়াসে সমবায় সংগঠন গড়ে ওঠে।
উত্তর গ: ব্যবসায় জগতে নানান ধরনের সংগঠন বিদ্যমান। এদের মধ্যে অন্যতম হলো একমালিকানা সংগঠন।
উদ্দীপকে করিম মিয়ার ব্যবসায়টির ধরন হলো একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন। একক ব্যক্তির মালিকানায় যখন কোনো ব্যবসায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। এ ব্যবসায়ে একজন ব্যক্তিই নিজ উদ্যোগ পুঁজির সংস্থান করেন এবং ব্যবসায় পরিচালনা ও ঝুঁকি বহন করেন। উদ্দীপকে করিম মিয়া স্বল্প ব্যাংক ঋণ নিয়ে তার এলাকায় একটি সবজির দোকান স্থাপন করেছেন। সবজির দোকানটির উদ্যোক্তা করিম মিয়া নিজেই এর মূলধনের সংস্থান করেছেন। মুনাফা বাবদ অর্জিত অর্থ করিম মিয়া একাই ভোগ করে। অপরদিকে দোকানটিতে কোনো লোকসান হলেও করিম মিয়া নিজেই ঝুঁকি বহন করবেন। করিম মিয়ার দোকানটির স্থায়িত্বও ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
পরিশেষে বলা যায় করিম মিয়ার ব্যবসায়ের ধরণ হলো এটি একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন।
উত্তর ঘ: বিভিন্ন কারণে একমালিকানা ব্যবসায় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
উদ্দীপকে আমি মনে করি, ক্ষেত্র অনুযায়ী করিম মিয়ার ব্যবসায়টি সবচেয়ে জনপ্রিয়। উলেখ্য করিম মিয়ার ব্যবসায়টি হলো একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন। করিম মিয়ার ব্যবসায়টিতে এমন কিছু সুবিধা আছে যেগুলো অন্য কোনো ব্যবসায়ে পাওয়া যায় না। এ ব্যবসায় গঠনে আইনগতভাবে কোনো ঝামেলা নেই। করিম মিয়ার মতো যে কেউ ইচ্ছা করলেই স্বল্প ব্যাংক ঋণ নিয়ে এ ব্যবসায় গঠন করতে পারে। ছোট আকারের হওয়ায় সবজির দোকান ভাড়াও চায়ের দোকান, খাতাপত্রের দোকান, মিষ্টির দোকান প্রভৃতি ক্ষেত্র অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায় গড়ে তুলতে মালিকের উদ্যোগই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে নিজে যেমন লাভবান হওয়া যায় তেমনি সমাজে বেকার সমস্যারও সমাধান সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, মালিকানার ভিত্তিতে ক্ষেত্র অনুযায়ী করিম মিয়ার ব্যবসায়টিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০২
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিরপুরের মিনার একটি টি শার্ট কারখানার মালিক। চাহিদা বৃদ্ধিতে নতুন মেশিনের দরকার। প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব থাকায় তার বন্ধু সোহেলকে চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবসায়ে অন্তর্ভুক্ত করলো। এক বছর ব্যবসায়ের পর হিসাবের গরমিল বিষয় নিয়ে মিনার সোহেলকে পাওনা টাকা না দিয়েই ব্যবসায়ের চুক্তি বাতিল করে দেয়। তাদের ব্যবসায়টি নিবন্ধিত ছিল না।
ক. কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র প্রয়োজন কোন কোম্পানির?
খ. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলতে কী বোঝায়?
গ. মালিকানার ভিত্তিতে দুই বন্ধুর ব্যবসায়টির ধরন ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কী মনে করো সোহেল তার পাওনা টাকা ফেরত পাবে? মতামত দাও।
উত্তর ক: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র প্রয়োজন।
উত্তর খ: ব্যক্তি যেমন কার্যাদি সম্পাদন করে নিজ নামে পরিচিত হতে পারে তেমনি আইন বলে ব্যক্তির ন্যায় সত্তা তৈরি হলে তাকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে। আইনের দ্বারা সৃষ্ট বলে কোম্পানি স্বাধীন ব্যক্তির মতো আইনগত অধিকার ও মর্যাদা লাভ করে চুক্তি সম্পাদন ও লেনদেস করতে পারে।
উত্তর গ: মালিকানার ভিত্তিতে নানান ধরনের ব্যবসায় প্রচলিত। এদের মধ্যে অন্যতম হলো অংশীদারি ব্যবসায়।
উদ্দীপকে দুই বন্ধুর ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে অংশীদারি চুক্তির আওতায় যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এ ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো চুক্তি। মিনার তার বন্ধু সোহেলকে টি শার্ট কারখানার মালিকানা প্রদান করে। মালিকানার অংশ প্রদানের মূল ভিত্তি হলো তাদের মধ্যেকার চুক্তি। এর ফলে চুক্তির আওতায় মিনারের টি শার্ট কারখানাটি পরিচালিত হবে। তাদের দুজনের পারষ্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ফলেই ব্যবসায়টি গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ের লাভ বা লোকসান তারা চুক্তির ভিত্তিতে বহন করবে। তবে দুই বন্ধুর ব্যবসায়টির দায় অসীম ব্যবসায়ের দায়ের জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ।
পরিশেষে বলা যায়, উলেখিত দুই বন্ধুর ব্যবসায়টি একটি অংশীদারি ব্যবসাং সংগঠন।
উত্তর ঘ: অংশীদারি ব্যবসায় মূলত চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত হয়। এ ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি, সোহেল তার পাওনা টাকা ফেরত পাবে না। কারণ সোহেল ও তার বন্ধু মিনারের অংশীদারি ব্যবসায়টি নিবন্ধিত ছিল না। অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন হলো সরকার কর্তৃক নিয়োজিত নিবন্ধক অফিসে ব্যবসায়ের নাম তালিকাভুক্তকরণ। উদ্দীপকের দুই বন্ধুর ব্যবসায়টি নিবন্ধিত না হওয়ায় ব্যবসায়টি বেশ কিছু সমস্যায় পড়বে। এক্ষেত্রে অংশীদারি চুক্তিজনিত অধিকার আদায়ে বাধাগ্রস্ত হবেন। মিনার সোহেলকে পাওনা টাকা না দিয়েই ব্যবসায়ের চুক্তি বাতিল করে দেয়। এক্ষেত্রে অনিবন্ধিত হওয়াঢ়য় সোহেল তার পাওনা আদায়ে আদালতে মামলাও করতে পারবে না এমনকী চুক্তির আলোকে ব্যবসায়ে সোহেলের যে অধিকার তাও আদায় করতে পারবে না। তবে নিবন্ধিত হলে সোহেল তার অর্থ ফেরত পেতো।
পরিশেষে বলা যায়, অনিবন্ধিত ব্যবসায় হওয়ার ফলে সোহেল তার পাওনা অর্থ ফেরত পাবে না।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ৩
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাজু, মিঠু ও শিমুল তিনজন মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সেলুন চালায়। তাদের সমঝোতার বিষয় হলো রাজু ব্যবসায়ের সকল মূলধন দেবে ও সকল ঝুঁকি সে একাই বহন করবে এবং মিঠু ও শিমুল সেলুনে কাজ করে প্রতিদিন যে আয় করবে তার নির্দিষ্ট অংশ পাবে। মিঠু ও শিমুলের মর্যাদা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে আদালত ঘোষণা করে সমঝোতার বিষয়বস্তু না পাল্টালে তারা কর্মচারী বলেই বিবেচিত হবে।
ক. ঘুমন্ত অংশীদার কে?
খ. অংশীদারি চুক্তিপত্র বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের ব্যবসায়টি কার্যত কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জামাল ও ছালামকে কর্মচারী ঘোষণা দেয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তরক: যে অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না কিন্তু বিনিয়োগ করে, ঝুঁকি গ্রহণ ও মুনাফা গ্রহণ করে তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
উত্ত খ: অংশীদারগণ ব্যবসায় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়ে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদন করে। অংশীদারি ব্যবসায় সৃষ্টি হয় চুক্তি হতে। চুক্তি মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। চুক্তির লিখিত রূপককে চুক্তিপত্র বলে। অংশীদারদের মধ্যকার বিভিন্ন ব্যবসায়িক শর্ত বা বিষয়বস্তু যে দলিলে লেখা থাকে তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলা হয়।
উত্তর গ: মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায়কে বিভিন্নভাবে চিহ্নিত করা হয়। উদ্দীপকে রাজু, মিঠু ও শিমুল সমঝোতার ভিত্তিতে একটা সেলুন চালায়। তাদের মধ্যে সমঝোতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। কারণ তাদের সমঝোতার বিষয় হলো রাজু ব্যবসায়ের সকল মূলধন দেয় এবং সকল ঝুঁকি একাই বহন করে। ব্যবসায়ের সকল সিদ্ধান্ত তার সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ে কমপক্ষে একাধিক ব্যক্তিকে মূলধন সরবরাহ করতে হবে। অংশীদারি ব্যবসায় চুক্তি অনুযায়ী অন্য কেউ ব্যবসায়ে নিয়োজিত হয়ে সে যদি শুধু মুনাফা বা বেতন ভোগ করে তাহলে সে কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবে, অংশীদার নয়। কারণ অংশীদারি ব্যবসায়ে কর্মী অংশীদারের দায় অসীম।
সুতরাং, রাজু, মিঠু ও শিমুলের মধ্যে সমঝোতা থাকলেও তাদের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়।
উত্তর ঘ: অংশীদারি ব্যবসায় সৃষ্টি হয় চুক্তি থেকে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। কিন্তু অংশীদারি চুক্তির কতগুলো উপাদান রয়েছে যাদের উপস্থিতি ব্যতিত অংশীদারি ব্যবসায় গঠন অসম্ভব। উদ্দীপকে রাজু, মিঠু ও শিমুল সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করে। তারা যদি বিষয়বস্তু পরিবর্তন না করে তবে মিঠু ও শিমুল কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ রাজু সমুদয় মূলধন সরবরাহ করে একাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জামাল ও ছালাম প্রতিদিনের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ পায়। অর্থাৎ ব্যবসায়টি সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হলেও অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য এখানে অনুপস্থিত। মিঠু ও শিমুল অংশীদারি হতে হলে মূরধন সরবরাহ এবং লাভÑলোকসান সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়টিতে মিঠু ও শিমুল কোনো মূলধন সরবরাহ করে না এবং সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে পারে না।
তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য না থাকায় মিঠু ও শিমুল কর্মচারী ঘোষণা করা হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৪
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্বাধীনচেতা যুবক নয়ন একক মালিকানায় একটি কমার্সিয়াল ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে টাইপরাইটার মেশিনের সাহায্যে দরখাস্ত, চিঠিপত্র ইত্যাদি টাইপ করতেন। অধুনা আবিষ্কৃত কম্পিউটারের সাহায্যে অতিসহজে ও দ্রুততার সাথে টাইপ করা যায়। তাই নয়ন টাইপরাইটার মেশিনের পরিবর্তে তার প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার স্থাপন করেন।
ক. সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন কী?
খ. ট্রেডলাইসেন্সের ধারণা দাও।
গ. টাইপরাইটার মেশিনের পরিবর্তে কম্পিউটার স্থাপনের মাধ্যমে একমালিকানা ব্যবসায়ের কোন সুবিধাটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. নয়ন একক মালিকানায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরো।
উত্তর ক: সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাচীনতম সংগঠন হলো একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন।
উত্তর খ: ট্রেডলাইসেন্স বলতে ব্যবসায়ের আইনগত অনুমতিপত্রকে বোঝায়। একমালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ইচ্ছে করলেই যেকোনো স্থানে ব্যবসায় স্থাপন করতে পারেন। কিন্তু পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একমালিকানা ব্যবসায় শুরু করতে হলে পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। ব্যবসায়ের এই অনুমতিপত্রকে ট্রেডলাইসেন্স বলা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করে ট্রেডলাইসেন্স সংগ্রহ করা যায়।
উত্তর গ: একমালিকানা ব্যবসায় একজন মালিক হওয়ায় যে কোনো ব্যবসায় থেকে বেশি সুবিধা ভোগ করা যায়। উদ্দীপকে নয়ন তার একমালিকানা ব্যবসায়ে টাইপরাইটারের পরিবর্তে কম্পিউটার স্থাপন করেন। এতে অতি দ্রুত ও সহজে টাইপ করা যায়। আহাদের ব্যবসায়ে কম্পিউটার স্থাপনের মাধ্যমে মূলত একমালিকানা ব্যবসাযের পরিবর্তনশীলতার সুবিধাটি ফুটে উঠেছে। একমালিকানা ব্যবসায়ের একজন মালিক থাকার কারণে ব্যবসায়ের স্বার্থে যে কোনো পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যায়, যা নয়নের ব্যবসায়ের মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়। কম্পিউটার স্থাপনের মাধ্যমে দরখাস্ত, চিঠি পত্র ইত্যাদি সহজেই দ্রুততার সাথে টাইপ করা যায়।
অতএব, নয়নের ব্যবসায়ের সাফল্যও দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হয়।
উত্তর ঘ: একমালিকানা ব্যবসায়টি মূলত একজন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত একক মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসায়।
উদ্দীপকে নয়ন একজন স্বাধীনচেতা যুবক। তিনি নিজেকে একক মালিকানায় একটি কমার্সিয়াল ইনস্টিটিউট স্থাপন করলেন। এরূপ ব্যবসায়ের গঠন প্রণালিও অত্যন্ত সহজ। এতে কোনো আইনি জটিলতা নেই। ব্যবসায়ের লাভÑলোকসান নয়ন একাই ভোগ করে থাকে। মালিক একজন থাকে বলে এতে ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সহজেই গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। ব্যবসায়ের যে কোনো সিদ্ধান্ত নয়ন সহজেই দ্রুত নিতে পারে। নয়নের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবসায়ের প্রয়োজনে যে কোনো বিষয় বা কৌশল সহজেই পরিবর্তন করা যায়। একজন মালিক থাকায় এর ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয়।
তাই বলা যায়, আহাদের মতো একজন স্বাধীনচেতা যুবকের জন্যে একমালিকানা ব্যবসায় প্রতিষ্টিত করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ৫
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শাহাদাত দীর্ঘদিন একক মালিকানায় ব্যবসায় চালিয়ে আসছেন। ছোট ব্যবসায়ী হয়েছেন। কর্মচারী রাখলেও তাদের ওপর নির্ভর করা যাচ্ছে না। নিজের শরীরটাও ভালো নেই। এতে ব্যবসায়ের ক্ষতি হচ্ছে। তাই তিনি সমঝোতার ভিত্তিতে একজন দক্ষ ব্যক্তিকে ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দুজন মিলে চালানোতেই ব্যবসায়ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ক. বাংলাদেশের কতভাগ ব্যবসায় সংগঠন একমালিকানা ভিত্তিক?
খ. ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা বলতে কী বোঝায়?
গ. শাহাদাত ব্যবসায়টি চালাতে কোন ধরনের সমস্যা অনুভব করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. পরবর্তীতে নেয়া শাহাদাতের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্যে কতটুকু সফল হবে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ক: বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ ব্যবসায় সংগঠন একমালিকানা ভিত্তিক।
উত্তর খ: ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা হলো মালিক থেকে ব্যবসায়ের পৃথক সত্তা। অর্থাৎ ব্যক্তি না হয়েও যখন কোনো কিছুর ব্যক্তির ন্যায় মর্যাদা ও অধিকার থাকে। ব্যবসায়ের স্বাধীন সত্তা থাকলে যে সকল সুবিধা পাওয়া যায় তা হলো নিজ নামে পরিচিত ও পরিচালিত হওয়া, নিজ নামে অন্যের সাথে চুক্তি করতে পারা, নিজ নামে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারা ইত্যাদি।
উত্তর গ: একমালিকানা ব্যবসায় হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম সহজ প্রকৃতির ব্যবসায় সংগঠন।
উদ্দীপকে শাহাদাতের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি ছিল একমালিকানা ব্যবসায়। একমালিকানা ব্যবসায়ে শাহাদাত যেমন সমুদয় মুনাফা একা ভোগ করত তেমনি সমুদয় ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তাকে বহন করতে হতো। কিন্তু শাহাদাত অসুস্থ হওয়ার ফলে তার ব্যবসায়ের নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় নি। এতে ব্যবসায়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একমালিকানা ব্যবসায়ের কোনো পৃথক সত্তা থাকে না। এজন্য মালিককে সর্বদা ব্যবসায়ে উপস্থিত থাকতে হয়।
তাই বলা যায়, শাহাদাতের আগের ব্যবসায়টি পরিচালনায় ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
উত্তর ঘ: অংশীদারি ব্যবসায় হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায় সংগঠন।
উদ্দীপকে শাহাদাত একমালিকানা ব্যবসায়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্যে অংশীদারি ব্যবসায় শুরু করেন। শাহাদাতের অংশীদারি ব্যবসায়ের সিদ্ধান্তটি তার প্রতিষ্ঠানের জন্যে মঙ্গলজনক হয়েছে। কেননা এখানে সদস্য বাড়ার ফলে মূলধনের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা এখানে সদস্য বাড়ার ফলে মূলধনের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল অংশীদারের স্বার্থ এক ও অভিন্ন হওয়ায় সকলকেই দলবদ্ধভাবে ব্যবসায়ের সফলতার জন্যে কাজ করতে হয়। ফলে ব্যবসায়ের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিক একা যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে যেটা প্রতিষ্ঠানের জন্যে কখনো মঙ্গল আবার কখনো অমঙ্গল বলে আনতে পারে। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকল অংশীদারের মত প্রদানের সুযোগ থাকে। ফলে সিদ্ধান্তটি সম্মিলিতভাবে যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব।
তাই বলা যায়, শাহাদাতের ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়ে রূপ দেওয়ায় ব্যবসায়টি আগের চেয়ে বেশি সফল হবে বলে আমি মনে করি।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৬
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আবুল ও সালাম পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করেন। তারা সবসময়ই এলাকার ভোক্তাদের কোন পণ্য দরকার সে অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহে সচেষ্ট থাকেন। এতে তাদের ব্যবসায়ে প্রচুর লাভ হয়। বর্তমানে তাদের ব্যবসায়ের বেশ সুনাম রয়েছে।
ক. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত?
খ. একমালিকানা ব্যবসায়েসহজে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় কেন?
গ. উদ্দীপকের ব্যবসায়ের ধরনটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ব্যবসায়টির সফলতার কোন বিষয়টির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ক: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ৫০ জন।
উত্তর : একমালিকানা ব্যবসায়ে যিনি মালিক তিনিই ব্যবসায়ের পরিচালক। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্যে কারও অনুমোদন বা কারও নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। মালিক নিজেই ব্যবসায়ের সকল কাজ দেখাশুনা এবং হিসাবরক্ষণ করেন। ফলে একমালিকানা ব্যবসায়ে সহজে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়।
উত্তর গ: দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে লাভÑলোকসান বণ্টনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যবসায় স্থাপন করলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে আবুল ও সালামের ব্যবসায়টি একটি অংশীদারি ব্যবসায়। কোনো আইনগত জটিলতা না থাকায় এরূপ ব্যবসায় গঠন করা অত্যন্ত সহজ। আবুল ও সালাম পারস্পরিক সমঝোতা অর্থাৎ চুক্তির ভিত্তিতে তাদের ব্যবসায়টি শুরু করেছে। এরূপ ব্যবসায়ে অংশীদার হিসেবে আবুল ও সালাম চুক্তি অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ এবং লাভÑলোকসান বণ্টন করেন। আইনগত পৃথক সত্তা না থাকায় অংশীদারদের দায় অসীম এবং তাদের মধ্যকার চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের বলে এ ব্যবসায় টিকে থাকে এবং সাফল্য লাভ করে।
উত্তর ঘ: অংশীদারি ব্যবসায়ে প্রচুর পরিমাণে পুঁজির যোগান দেয়ার কারণে ভোক্তাদের চাহিদানুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারে।
উদ্দীপকে আবুল ও সালামের অংশীদারি ব্যবসায়টি সফলতার মূল কারণ ভোক্তা সেবা। আবুল ও সালাম পুঁজির যোগান দিয়ে ভোক্তাদের কোন পণ্য দরকার সে অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহে সচেষ্ট থাকেন। ভোক্তা তাদের চাহিদানুযায়ী পণ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে আবুল কালাম ও আব্দুস সালামের ব্যবসায়ে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে এবং বিক্রয়ের পরিমাণও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এতে দেখা যায় আবুল কালাম ও আব্দুস সালামের ব্যবসায়ে প্রচুর মুনাফা হয়।
সুতরাং, ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহই ব্যবসায়টির সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ৭
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ঝিট্কা গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী মিনার বাবা গ্রামের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন পলি চিকিৎসক। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি মানসম্মত ঔষধও বিক্রি করেন। গ্রামে বিভিন্ন রোগের ঔষধের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্তে¡ও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি সব ধরনের ঔষধ ক্রয় করতে পারেন না। সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ঔষধ কোম্পানির এজেন্টরাও প্রয়োজনীয় ঔষধ সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না। অন্যদিকে দোকানে সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় অনেক ঔষধ নষ্ট হয়ে যায়।
ক. ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
খ. শিল্প বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
গ. মিনার বাবার ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. মিনার বাবার পক্ষে এলাকাবাসীর চাহিদামাফিক ঔষধ সরবরাহ করতে না পারার প্রধান কারণ কোনটি বলে তুমি মনে কর। তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ক: ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা।
উত্তর খ: উৎপাদনের বাহন হচ্ছে শিল্প। শিল্প বলতে এমন প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, কাঁচামালে রূপদান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা।
যেমন নার্সারি শিল্প, খনিজ শিল্প, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বস্ত্র শিল্প, বিদ্যুৎ শিল্প ইত্যাদি কাজসমূহ বিভিন্ন প্রকার শিল্পের উদাহরণ। এরূপ বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন পণ্যে পরিণত করা হয়।
উত্তর গ: নাফিসের বাবার ব্যবসায়টির ধরন হলো প্রত্যক্ষ সেবা।
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বিভিন্ন পেশাদারি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ যেসব সেবামূলক কার্যাদি সম্পাদন করে থাকেন সেগুলোকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। যেমনÑডাক্তারি, ওকালতি, প্রকৌশলী, সাংবাদিকতা এবং আরও অন্যান্য পেশাভিত্তিক কার্যকলাপ।
মিনার বাবা গ্রামের একজন পলি চিকিৎসক। তিনি রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে গ্রামের মানুষদের সহায়তা করেন এবং চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি মানসম্মত ঔষধও বিক্রি করেন। সুতরাং তার এসব কার্য হচ্ছে সেবামূলক কার্যকলাপ। আর এ কার্যক্রম তিনি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাভিত্তিক করে থাকেন।
উত্তর ঘ: মিনার বাবার পক্ষে এলাকাবাসীর চাহিদামাফিক ঔষধ সরবরাহ করতে না পারার প্রধান কারণ অর্থসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা।
প্রকৃতপক্ষে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য দরকার হয় পর্যাপ্ত মূলধনের। কিন্তু অনেক সময় ব্যবসায়ীর একার পক্ষে সব সময় পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যবসায়ের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
মিনার বাবা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অর্থসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। কেননা পর্যান্ত মূলধন বা অর্থের অভাবে গ্রামে বিভিন্ন রোগের ঔষধের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্তে¡ও তিনি সব ধরনের ঔষধ ক্রয় করতে পারেননি। তা ছাড়া অর্থ অভাবে তিনি ঔষধ সংরক্ষণের সুব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। যার কারণে তার দোকানের অনেক ঔষধ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ঔষধ সংরক্ষণের সুব্যবস্থা থাকলে সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ঔষধ কোম্পানির এজেন্টরা যে প্রয়োজনীয় ঔষধ সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না সে সমস্যাও সমাধান করতে পারতেন। কেননা সংরক্ষণের সুব্যবস্থা থাকলে তিনি অধিক পরিমাণে ঔষধ কিনে রাখতেন। ফলে প্রয়োজনীয় ঔষধটি শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই অর্ডার দিতে পারতেন। ফলে এলাকাবাসী ঔষধ না পেয়ে ফিরে যেত না।
কাজেই পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবেই এরূপ সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এ কারণেই আমি মনে করি অর্থসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে মিনার বাবা এলাকাবাসীর চাহিদামাফিক ঔষধ সরবরাহ করতে পারেননি।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৮
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাংলাদেশ এক সময় ব্যবসায়Ñবাণিজ্যে সারা বিশ্বে সুপরিচিত ছিল। এ দেশে এমন একটি বস্ত্র তৈরি হতো যারা খ্যাতি দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর আবহাওয়া ও জলীয় বাষ্প সে বিখ্যাত বস্ত্রটির সুতা তৈরিতে সহায়ক ছিল। সাথে ছিল শ্রমিক ও কারিগরদের আন্তরিক পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা। বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশের সবগুলো উপাদানের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে ব্যবসায়Ñবাণিজ্যের অধিক প্রসার ঘটবে এবং ফিরে আসবে অতীত গৌরব।
ক. কোন বস্ত্রের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল?
খ. ব্যবসায়িক পরিবেশ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
গ. কোন পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকে উলেখিত শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীলতা বিকাশ সম্ভব? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বর্তমানে দেশের ব্যবসায়Ñবাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্দীপকে উলেখিত ব্যবসয়ের কোন পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি বলে তুমি মনে কর। তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ক: মসলিন কাপড়ের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উত্তর খ: ব্যবসায়িক পরিবেশ বলতে যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে ব্যবসায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে বোঝায়।
ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা গঠিত হয়। ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড দ্বারাও প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই ব্যবসায়িক পরিবেশ বিবেচনায় স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, বনভূমি, প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, ঘনবসতি, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থাসমূহ বিবেচনায় আনতে হয়।
উত্তর গ: সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকে উলেখিত শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীলতা বিকাশ সম্ভব।
সাধারণত জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভোক্তাদের মনোভাব, মানব সম্পদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইত্যাদি সমন্বয়ে ব্যবসায়ের সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে মসলিন বস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এদেশের মানুষ জাতিগত, ঐতিহ্যগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উদার, পরিশ্রমী এবং সৃজনশীল বিধায় অতীতে মসলিন কাপড় উৎপাদন করে মানুষ তাদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছিল। আর এই মসলিন কাপড় উৎপাদনের স্থান সোনারগাঁও ছিল এক সময় ব্যবসায়, শিক্ষাদীক্ষা, কৃষি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও কারুশিল্প বিশ্বসেরা। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে মুখস্থনির্ভর। সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে আরও দক্ষতা ও শ্রমনির্ভর করতে পারলে বর্তমান শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীলতা বা বিকাশ সম্ভব হবে।
উত্তর ঘ: বর্তমানে দেশের ব্যবসায়Ñবাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্দীপকে উলেখিত সামাজিক পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি।
একটি দেশের সামাজিক পরিবেশ গঠিত হয় জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভোক্তাদের মনোভাব, মানবসম্পদ, শিক্ষাও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে।
উদ্দীপকে বস্ত্র ব্যবসায়ের কথা উলেখ করা হয়েছে। আর সেই বস্ত্র তৈরিতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। প্রাকৃতিক পরিবেশ বস্ত্রটির সুতা তৈরিতে সহায়ক ছিল এবং সামাজিক পরিবেশের মাধ্যমে কারিগরদের আন্তরিক পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বস্ত্রটি বুনন করা হতো। সে সময়ে আমাদের এদেশে ব্যবসায়Ñবাণিজ্যে সারা বিশ্বে বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে দেশের ব্যবসায়Ñবাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ব্যবসায় পরিবেশের সবগুলো উপাদানেরই উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন। কিন্তু প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যে অধিক উন্নয়ন জরুরি সামাজিক পরিবেশের। কেননা প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকাংশ
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৯
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাব্বি ও তার চার বন্ধু চুক্তির ভিত্তিতে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করেন। উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায় স¤প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সমস্যা হচ্ছে। তাই তারা সংগঠনের ধরন পরিবর্তন করে ১৯৯৪ সালের আইনানুযায়ী ‘রাব্বি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ কোং লিঃ নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করে বৃহৎ পরিসরে কাজ শুরু করেন। ২ বছরের মধ্যে তারা দুইটি বিভাগীয় শহরে তাদের শাখা খুলে ব্যবসায় স¤প্রসারণ করেন।
ক. ব্যবসায় সংগঠন কত প্রকার?
খ. একমালিকানা ব্যবসায় ‘মালিকের দায় অসীম’ কথাটি ব্যাখ্যা কর।
গ. রাব্বি ও তার বন্ধুদের ১ম পর্যায়ের ব্যবসায় সংগঠনটি কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সাংগঠনিক ধরন পরিবর্তন করায় নাফিজদের প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে বিষয়টি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ক: মালিকানার ধরন অনুযায়ী ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
উত্তর খ: একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক একজন। তাই এই ব্যবসায়ে মালিকের দায়দায়িত্ব অসীম।
একমালিকানা ব্যবসায় মালিক ও ব্যবসায়কে পৃথক সত্তা হিসেবে দেখা হয় না। ব্যবসায়ে যখন লাভ হয় তখন মালিক সকল লাভের অর্থ একাই ভোগ করে। পক্ষান্তরে মালিকের ব্যবসায়ে যদি কোনো প্রকার লোকসান হয়, তাহলে তার দায়ভার মালিকের একাই বহন করতে হয়। এবং এই লোকসান থেকে মালিকের যে দায় সৃষ্টি হয়, তা যদি তার ব্যবসায়ের অর্থ দ্বারা পরিশোধ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তাকে নিজের সম্পত্তি দ্বারা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। তাই এরূপ ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
উত্তর গ: রাব্বি ও তার বন্ধুর প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি ছিল একটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় সংগঠন তৈরি করে থাকে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায় ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এরূপ ব্যবসায় গঠন থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্যন্ত এমনকি লাভ লোকসান বণ্টন করাসহ সকল কার্য চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে রাব্বি ও তার চার বন্ধু চুক্তির ভিত্তিতে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করেন। তারা মানসম্মত পণ্য বাজারজাতকরণ করে খুবই অল্প সময়ে সুনাম অর্জন করেন। এ সাফল্যে প্রত্যেক অংশীদারের সমান অবদান। কারণ তারা একেকজন ব্যবসায়ের একেকটি দিক দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় তাদের চুক্তির ভিত্তিতে এবং এটি ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এটি অংশীদারি সংগঠন।
উত্তর ঘ: রাব্বি ও তার বন্ধুদের অংশীদারি ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হওয়ায় এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বাংলাদেশের ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে রাব্বি ও তার বন্ধুরা প্রথম দিকে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। তাদের মানসম্মত পণ্য সরবরাহের ফলে অল্প দিনেই তারা সাফল্য অর্জন করে। বাজারে তাদের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়। যার ফলে তাদের ব্যবসায়টিকে স¤প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই তারা পরামর্শ করে সংগঠনের ধরন পরিবর্তন করে। পরবর্তীতে তারা ‘রাব্বি এন্ড ফ্রেন্ডস’ কোং লি. নামে তাদের প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করে। ফলে তারা মাত্র দু’বছরের মধ্যে দু’টি বিভাগীয় শহরে তাদের শাখা খুলে ব্যবসায় স¤প্রসারিত করেন। এর ফলে যেমন ব্যবসায়টি বড় হয়েছে, অন্যদিকে এটি দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কাজের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।
তাই পরিশেষে বলা যায়, তাদের ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করার ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ১০
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বগুড়ার গণি মিয়া এলাকার কৃষকদের সংগঠিত করে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা কৃষিজ পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। পূর্বে ন্যায্যমূল্য হতে বঞ্চিত হলেও একত্রিত হয়ে কার্য পরিচালনার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ইতোমধ্যে তারা ব্যবসায় স¤প্রসারণ করতে গিয়ে মূলধন সংকটে পড়েছেন।
ক. সমবায় কী?
খ. সমবায় সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. গণি মিয়া কৃষকদের নিয়ে কোন ধরনের সমবায় সমিতি গঠন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উলেখিত সংগঠনটি কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মূলধন সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর: কতিপয় নিæ ও মধ্যবিত্তের সমমনা ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে যে সংগঠন গঠন করে তাকে সমবায় বলে।
উত্তর খ: সমবায়ের সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য সদস্যদের আর্থÑসামাজিক কল্যাণসাধন।
সমবায় সংগঠন মূলত গঠিত হয় নিæবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও বিত্তহীনদের দ্বারা। তাদের আর্থিক অবস্থাও উন্নত হয়। এ সমিতি গঠনের মাধ্যমে সদস্যরা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সমাজের কল্যাণসাধনে নিয়োজিত হয়। সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর, সমতা প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি সমবায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উত্তর গ:বিভিন্ন ধরনের সমবায় সমিতি আমাদের দেশে বিদ্যমান। সমবায় সমিতির অন্যতম ধরন হলো কৃষক সমবায় সমিতি।
উদ্দীপকে গণি মিয়া কৃষকদের নিয়ে কৃষক সমবায় সমিতি গঠন করেছেন। সমশ্রেণির কৃষক নিজেদের আর্থিক কল্যাণসাধনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে যখন সমবায় সমিতি গঠন করেন তখন তাকে সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে বগুড়ার গণি মিয়া কৃষকদের নিয়ে যে সংগঠন গঠন করেছেন তারা কৃষিজ পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এর ফলে পূর্বে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও বর্তমানে একত্রিত হয়ে কার্য পরিচালনার জন্য তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অর্থাৎ কৃষকরা সমবায় সমিতির মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক কল্যাণসাধন করতে পারছেন। সমবায় সমিতির আওতায় কৃষকদের মধ্যে ঐক্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা সকলেই সকলের কল্যাণ এবং পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহে সমাজেরও কল্যাণ করেছেন।
উত্তর ঘ: যেকোনো ধরনের ব্যবসায়ের জন্যই প্রয়োজন অর্থের। বিভিন্ন উৎস থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা যায়।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি, উলেখিত সংগঠনটি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের মূলধন সমস্যার সমাধান করতে পারে।
উদ্দীপকে গণি মিয়ার উদ্যোগে গঠিত কৃষক সমবায় সমিতির ব্যবসায় করে লাভবান হচ্ছে। তারা তাদের ব্যবসায় স¤প্রসারণ করতে চায়। এ অবস্থায় ব্যাংক হতে উক্ত সমবায় সমিতিটি ঋণ গ্রহণ করতে পারে। কারণ ব্যাংক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণদান করে থাকে। এ ঋণের বিপরীতে কৃষক সমবায় সমিতিকে সুদ প্রদান করতে হবে। ব্যাংক হতে সমিতি প্রয়োজনমাফিক ঋণ নিলে সহজেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমি মনে করি। এছাড়া আমি মনে করি কৃষক সমবায় সমিতি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতেও ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে সমিতি প্রয়োজনমাফিক ঋণ গ্রহণ করলে সমবায় সমিতি তাদের মূলধন সমস্যা সমাধান করতে পারে।
\ আমাদের Guideline সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করে \
যোগাযোগঃ 01872961270



0 Comments