ব্যবসায় উদ্যোগ
অধ্যায় ০৩: আত্মকর্মসংস্থান
প্রশ্ন: আত্মকর্মসংস্থান কী?
উত্তর: নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা কত ভাগ লোক গ্রাম বাস করে?
উত্তর: বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির পরিমাণ কত?
উত্তর: বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ।
প্রশ্ন: প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের কী বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন: ব্যবসায় সাফল্য লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত কী?
উত্তর: ব্যবসায় সাফল্য লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক পণ্য নির্বাচন।
প্রশ্ন: কোনো ব্যবসায়ের ব্যর্থতার কারণ কী?
উত্তর: কোনো ব্যবসায়ের ব্যর্থতার কারণ হলো মালিকের পূর্বÑঅভিজ্ঞতা ও ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল সম্বন্ধে জ্ঞানের অভাব।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান?
উত্তর: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
প্রশ্ন: নট্রামস কোন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়?
উত্তর: নট্রামস শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন: যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কোন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়?
উত্তর: যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন: নট্রামস এর প্রধান কাজ কী?
উত্তর: নট্রামস এর প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও কম্পিউটার চালনার শিক্ষা দেওয়া।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ কোন ধরনের দেশ?
উত্তর: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: বাংলাদেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার কারণ জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি।
প্রশ্ন: নিজের দক্ষতা ও গুণাবলি দ্বারা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে কী বলে?
উত্তর: নিজের দক্ষতা ও গুণাবলি দ্বারা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
প্রশ্ন: বর্তমানে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তির কী বৃদ্ধি পেয়েছে?
উত্তর: বর্তমানে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশ্ন: শহরমুখী জনস্রোত কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর: শহরমুখী জনস্রোত আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রশ্ন: আত্মকর্মসংস্থান বেছে নেওয়ার পূর্বে কী নির্ধারণ করা আবশ্যক?
উত্তর: আত্মকর্মসংস্থান বেছে নেওয়ার পূর্বে মূলধন নির্ধারণ করা আবশ্যক।
প্রশ্ন: পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করা যায় কীসের মাধ্যমে?
উত্তর: পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করা যায় আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে।
প্রশ্ন: কী নির্বাচনের পূর্বে পণ্যের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ করতে হয়?
উত্তর: শ্রমিক নির্বাচনের পূর্বে পণ্যের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ করতে হয়।
প্রশ্ন: সেরিকালচার কীসের লাভজনক ক্ষেত্র?
উত্তর: সেরিকালচার আত্মকর্মসংস্থানের লাভজনক ক্ষেত্র।
প্রশ্ন: পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করা যায় কীসের মাধ্যমে?
উত্তর: পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করা যায় বাজার জরিপের মাধ্যমে।
প্রশ্ন: কীসের মাধ্যমে ব্যবসায়ের ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়?
উত্তর: উপযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবসায়ের ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর:
প্রশ্ন: বাংলাদেশের বেকার সমস্যা এত প্রকট কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে। কিন্তু সে অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা এবং চাহিদার তুলনায় সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে বাংলাদেশে বেকার সমস্যা এত প্রকট।
প্রশ্ন: আত্মকর্মসংস্থানকে স্বাধীন পেশা বলা হয় কেন?
উত্তর: নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হলো আত্মকর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি নিজেই ব্যবসায়ের মালিক এবং নিজেই শ্রমিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কারও নিকট জবাবদিহি করেন না। এজন্যই আত্মকর্মসংস্থানকে স্বাধীন পেশা বলা হয়।
প্রশ্ন: ন্যূনতম ঝুঁকি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ঝুঁকি বলতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তাকে বোঝায়। ন্যূনতম অর্থ সর্বনিæ। ন্যূনতম ঝুঁকি হলো সেই ঝুঁকি যেটি উপেক্ষা করা যায় না। ব্যবসায় বা কোনো উদ্যোগগ্রহণ করতে হলে যে ঝুঁকিটুকু গ্রহণ করতে হয় তাকেই ন্যূনতম ঝুঁকি বলে। ন্যূনতম ঝুঁকি হিসাবÑনিকাশ করে নির্ধারণ করা হয়।
প্রশ্ন: বেকার কাকে বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: চাকরির অভাবই হলো বেকারত্ব। যিনি বেকারত্ব সমস্যার শিকার তাকেই বেকার বলা হয়। বেকার হলো একজন ব্যক্তি যার কর্মসংস্থানের কোনো উপায় নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ কোটির বেশি যুবকÑযুবতী বেকার। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ সকল বেকার যুবকÑযুবতীর বেকারত্বের অবসান ঘটানো যায়।
প্রশ্ন: উদ্যোক্তার ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয় কেন?
উত্তর: সকল উদ্যোগে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া নতুন কিছু সৃষ্টি করা যায় না। ব্যবসায় উদ্যোগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। এ সকল ঝুঁকি গ্রহণ এবং তা ন্যূনতমকরণের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা তার উদ্যোগকে সফল করতে পারেন। এজন্যই উদ্যোক্তাকে ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়।
প্রশ্ন: আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে কোন কোন সুবিধা সৃষ্টি করা যায়?
উত্তর: আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অনেকগুলো সৃষ্টি করা যায়। যেমনÑশহরমুখী জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামীণ সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের মানসিকতা সম্পন্ন সমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে স্বেচ্ছামূলক কাজে উৎসাহিত করা যায়।
প্রশ্ন: ব্যবসায়ে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করতে হয়?
উত্তর: ব্যবসায় পরিচালনার জন্য যেসব কর্মী নিয়োগ করা হবে তাদেরকে অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন এবং স্বীয় কাজে দক্ষ হতে হবে। কাজেই কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, বিশ্বস্ততা প্রভৃতি মানদন্ডের ভিত্তিতে যাচাই করে নির্বাচনে করতে হবে। তা ছাড়া নিয়োগকৃত কর্মীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। আবেগ দ্বারা তাড়িত হয়ে কোনো কর্মী নিয়োগ করা উচিত নয়।
প্রশ্ন: আত্মকর্মসংস্থান পেশা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যখন কোনো ব্যক্তি স্বÑউদ্যোগে কোনো ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে অর্থোপার্জন করে জীবিকা চালায় তখন একে আত্মকর্মসংস্থান পেশা বলে। আত্মকর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে চাকরির না করে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার বলে যেকোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে নিয়োজিত থেকে সম্মানজনক জীবিকা অর্জন করে থাকে। পেশা হিসেবে আত্মকর্মসংস্থান চাকরির বিকল্প একটি উত্তম পেশা।
প্রশ্ন: ব্যবসায়ের ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঝুঁকি হলো মুনাফা অর্জনের পুরস্কারস্বরূপ। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় সংক্রান্ত ঝুঁকি আগেই নিরূপণ করে তার মোকাবিলা করার কৌশল স্থির করে রাখলে অনিশ্চয়তাজনিত ক্ষতির হাত থেকে নিজেদের ব্যবসায়কে রক্ষা করতে পারে। কাজেই উপযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবসায় ঝুঁকি নিরূপণ ও মোকাবিলার উপায় নির্ধারণ ব্যবসায় সাফল্য লাভের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০১
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মি. শাহীন তালুকদার ১৫ বছর বয়স থেকেই তার পিতার ব্যবসায় দেখাশুনা করে আসছেন এবং যথেষ্ট দক্ষ হয়েছেন। সেজন্য তিনি তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সঠিকভাবে পরিচালিত করে সফল হতে পেরেছেন। পিতার আদেশ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ক. ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনটি দিক নির্দেশনা দলিল?
খ. বাংলাদেশে আত্মকর্মসংস্থান জরুরি কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. মি. শাহীন তালুকদার তার পিতার ব্যবসায় থেকে কোনটি অর্জন করেছেন? বর্ণনা কর।
ঘ. মি. শাহীন তালুকদারের ব্যবসায়ে সফলতার কারণটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ক: ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা হচ্ছে দিক নির্দেশনা দলিল।
উত্তর খ: বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লক্ষ লোক বেকার রয়েছে। বিশাল কর্মক্ষম বেকার জনগোষ্ঠীকে মজুরি ও বেতনভিত্তিক চাকরির মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। সরকারিভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও কম। এজন্যই বাংলাদেশে আত্মকর্মসংস্থান অতি জরুরি।
উত্তর গ: দক্ষতা উদ্যোক্তাকে সফল হতে সাহায্য করে। মি. শাহীন তালুকদার তার পিতার ব্যবসায় থেকে ব্যবসায় পরিচালনা সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
মি. শাহীন তালুকদার ১৫ বছর বয়স থেকে পিতার ব্যবসায় দেখাশুনা করেন। এতে ব্যবসায় পরিচালনার যথেষ্ট পূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি দক্ষ হতে পেরেছেন। দক্ষতার বলে তিনি তার ব্যবসায়কে সঠিকভাবে পরিচালিত করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন। ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে যে বিভিন্ন রকম বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা কীভাবে সহজে দূর করা যায় তা তিনি পিতার ব্যবসায় থেকে অর্জন করেছেন। ফলে তিনি তার ব্যবসায় সহজে পরিচালনা করে লাভবান হতে পেরেছেন।
উত্তর ঘ: সঠিক ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়কে সঠিক পথে পরিচালিত করে। মি. শাহীন তালুকদারের ব্যবসায়ে সফলতা কারণটি হচ্ছে সঠিক ব্যবস্থাপনা। তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তার ব্যবসায়ে সকল কর্মকর্তা ও কর্মীকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। কর্মীদের যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারলে খরচ কম হয় এবং অধিক পণ্য উৎপন্ন করা যায়।
এ গুণটির অভাবে অনেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ে সফলতা লাভ করতে ব্যর্থ হন। মি. তালুকদার ব্যবসায় পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যথাযথভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিচালনা করেন। অর্থাৎ সঠিক ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রয়োগ করে তিনি সফল হতে পেরেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০২
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিএ পাস জনাব আবু তাহের চাকরি না পেয়ে নিজেদের বাড়ির একপাশের জমিতে বাঁশ ও খড়ের সাহায্যে একটি ঘর তৈরি করে পোল্ট্রি ফার্ম গঠন করেন। সুদক্ষ পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের বলে তিনি তার ফার্মকে বেশ স¤প্রসারণ করেন। ৫ জন দুস্থ অসহায় মহিলাকে তিনি তার ফার্মের কাজ দেখাশুনা ও পরিষ্কারÑপরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োগ করেছেন। এখন প্রতিদিন তার ফার্ম থেকে শহরে ১,০০০ ডিম সরবরাহ করা হয়।
ক. কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস কয়টি?
খ. আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝ?
গ. জনাব আবু তাহেরকে কী হিসেবে গণ্য করা যায়? বর্ণনা কর।
ঘ. আর্থসামাজিক উন্নয়নে জনাব আবু তাহেরের মতো ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটুকু তা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ক: কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস ২টি।
উত্তর খ: নিজস্ব পুঁজি অথবা ঋণ করা স্বল্প মূলধন, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্যে প্রয়োজন দুটি কর্মঠ হাত ও প্রবল আত্মবিশ্বাস।
উত্তর গ: একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি তখনই ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত হবেন যখন তিনি নিজের কর্মসংস্থানের চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং ঝুঁকি আছে জেনেও এগিয়ে যান।
উদ্দীপকে জনাব আবু তাহেরকে একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য করা যায়। কারণ চাকরি না পেয়ে জীবিকার্জনের তাগিদে তিনি পোল্ট্রি ফার্ম গঠন করেন। কঠোর পরিশ্রমে ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ফার্মের স¤প্রসারণ করে এখন তিনি সেটিকে স¤প্রসারিত করেছেন, যেখানে ৫ জন দুস্থ অসহায় মহিলার কাজের ব্যবস্থা করে তাদেরও সচ্ছলতা আনয়নে সহায়তা করেছেন। এই নতুন কর্মসংস্থানের কারণে সমাজের কিছু মানুষ উপকৃত হয়েছে। আবু তাহেরের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পদের সদ্ব্যবহার হয় অন্যদিকে সমাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের আর্থÑসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য করা যায়।
উত্তর ঘ: আর্থÑসামাজিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। উদ্দীপকে আর্থÑসামাজিক উন্নয়নে জনাব আবু তাহেরে মতো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
জনাব আবু তাহের বিএ পাস করে চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন নি। তিনি ঝুঁকি নিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম গঠন করেছেন। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করেছেন এবং সমাজের কিছু অসহায় মানুষের আয়ের পথও তৈরি করেছেণ। এভাবে সমাজের অন্য মানুষ যদি এগিয়ে আসে তাহলে দেশের সামাজিক উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া জনাব আবু তাহের পোল্ট্রি ফার্মের মাধ্যমে সমাজের মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের ব্যবস্থাও করতে পেরেছেন। ফলে এটিও সামাজিক উন্নয়নের সহায়ক হয়েছে।
তাই বলা যায়, জনাব আবু তাহেরের মতো উদ্যোক্তার আর্থÑ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৩
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মধুখালী গ্রামের সাহেরা বেগম পাশের গ্রামের ফুল চাষী শের আলীকে বাজারে ফুল বিক্রি করতে দেখে ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সাহেরা বেগম প্রশিক্ষণ নিয়ে ফুল চাষ করার জন্যে পাঁচ কাঠা জমি বিক্রয় করে টাকা জোগাড় করেন। এতেও পুরো টাকার সংস্থান না হলে একটি সংস্থা থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেন। আস্তে আস্তে সাহেরা বেগম হয়ে ওঠেন সফল ফুল চাষী। সাহেরা বেগমের সফলতা দেখে মধুখালী গ্রামের ৩০০ পরিবার ফুল চাষে জড়িত হয়। সাহেরা স¤প্রতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার হিসেবে ফুলের রানীর উপাধি ও বেশকিছু অর্থ পেয়েছেন।
ক. আত্মকর্মসংস্থানে প্রথম দিকে আয় কেমন থাকে?
খ. আত্মকর্মসংস্থানের পাঁচটি ক্ষেত্র উলেখ কর।
গ. ফুল চাষে সফলতা পেতে সাহেরা বেগমের কোন গুণটি কাজে লেগেছে? বর্ণনা কর।
ঘ. আত্মকর্মসংস্থানকারী সাহেরা বেগমের মতো উদ্যোক্তাগণের আরও অনুপ্রাণিত করে? তুমি কি একমত?
উত্তর ক: আত্মকর্মসংস্থানে প্রথম দিকে আয় সীমিত ও অনিশ্চিত থাকে।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থানের পাঁচটি ক্ষেত্র হলোÑ (১) হাঁসÑমুরগি পালন, (২) গবাদি পশু ও ছাগল পালন, (৩) মৎস্য চাষ, (৪) ফুলের চাষ, (৫) সবজি বাগান তৈরি।
উত্তর গ: আত্মকর্মসংস্থানের যেকোনো ক্ষেত্রেই নিয়োজিত হয়ে সফলতা অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে ফুল চাষে সফলতা পেতে সাহেরা বেগমের যে দিকটি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে তা হলো সাফল্য লাভের তীব্র আকাঙ্খা। এ গুণটি অর্জন করতে পারলে যেকোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা যায়। সাহের বেগম শের আলীকে ফুল বিক্রি করতে দেখে ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সাহেরা বেগমের বিশ্বাস ছিল এ ফুল চাষের মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তাই সাফল্য লাভের তীব্র আকাঙ্খায় সাহেরা বেগম প্রশিক্ষণ নিয়ে ফুল চাষ শুরু করেন এবং সফলতা অর্জন করেন।
উত্তর ঘ: উদ্যোক্তাকে উদ্যোগ গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা রাখে উদ্দীপনা। ‘আত্মকর্মসংস্থানকারী সাহেরা বেগমের মতো উদ্যোক্তাগণকে আরও অনুপ্রাণিত করে’Ñ উক্তিটি যথার্থ। সাহেরা বেগম পাশের গ্রামের ফুল চাষী শের আলীকে বাজারে ফুল বিক্রি করতে দেখে ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আত্মকর্মসংস্থানকারী শের আলীকে দেখে সাহেরা বেগম উদ্দীপ্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফুল চাষ শুরু করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে পুঁজির সংস্থান করে শিউলি বেগম ফুল চাষে সফল হয়ে ওঠেন। সাহেরা বেগমের সফলতা দেখে মধুখালী গ্রামের ৩০০ পরিবার ফুল চাষে জড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ আত্মকর্মসংস্থানকারী উদ্যোক্তাগণকে উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করার ফলেই সাহেরা বেগমের মতো আরও অনেক নতুন উদ্যোক্তার সৃষ্টি হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০২
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাঙামাটির স্কুল শিক্ষক মামাপ্রু চাকমা স্থানীয় তাঁতি মেরিনা চাকমাকে তাঁতে বোনা পণ্যসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেন। ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে মেরিনা পাহাড়ি মেয়েদের পোশাক ‘থামি’ তৈরি করে বিক্রি করা শুরু করে এবং দ্রুত উন্নতি লাভ করে। মেরিনার কারণে বেশ কয়েকটি মেয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার জেলায় বিগত তিন বছর যাবৎ তিনি সেরা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
ক. দেশের মোট শ্রমশক্তির কত অংশ যুবকÑযুবতী?
খ. আত্মকর্মসংস্থানের একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
গ. মেরিনার দ্রুত উন্নতিতে কোন বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘মামাপ্র“ চাকমার পরামর্শ প্রতিপালনই মেরিনা চাকমার জীবনে এত বড় স্বীকৃতি এনে দিয়েছে’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ক: দেশের মোট শ্রমশক্তির একÑতৃতীয়াংশ হচ্ছে যুবকÑযুবতী।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বাধীন পেশা।
আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি নিজেই নিজের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। তারা সাধারণত অন্যের নিয়ন্ত্রণ বা অপরের ওপর নির্ভরশীলতা পছন্দ করে না। এ বৈশিষ্ট্য তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রেরণা জোগায়। স্বাধীনচেতা গুণ থাকে বলেই তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
উত্তর গ: মেরিনার ব্যবসায় দ্রুত উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে সঠিক পণ্য নির্বাচন করার বিষয়টি।
আত্মকর্মসংস্থানে বেশ কিছু উপযুক্ত ও লাভজনক ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্য থেকে চাহিদা আছে এমন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে বা সেবাদান করে সাফল্য অর্জন করা যায়। কেননা আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে এর উপযুক্ত পণ্য নির্বাচনের ওপর। বাজার জরিপ ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে পণ্যের সঠিক চাহিদা নিরূপণ ব্যবসায়ে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ব্যবসায়ের জন্য সঠিক পণ্য নির্বাচন করলে সাফল্য সহজেই অর্জিত হয়।
তাঁতি মেরিনা রাঙামাটির স্কুল শিক্ষক মামাপ্র“ চাকমার নিকট থেকে তাঁতে বোনা পণ্যসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পান। ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে মেরিনা পাহাড়ি মেয়েদের পোশাক থামি তৈরি করে বিক্রি করা শুরু করে এবং দ্রুত উন্নতি লাভ করে। মূলত মেরিনার সঠিক পণ্য নির্বাচনই তার দ্রুত উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে।
উত্তর ঘ: মামাপ্র“ চাকমার পরামর্শ প্রতিপালনই মেরিনা চাকমার জীবনে বড় স্বীকৃতি এনে দিয়েছে কথাটি যথার্থ।
দেশে চাকরি সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় বিকল্প উপায় হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনিয়োগ করা। কিন্তু শিক্ষিত ও অশিক্ষিত যুবসমাজের কাছে আত্মকর্মসংস্থানের ধারণা সুস্পষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচারের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া যায়।
মামাপ্র“ চাকমা মেরিনা চাকমাকে তাঁত বোনা পণ্যসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেন। আর তাঁতে বোনা পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে ধারণা পেয়েই মেরিনা আত্মকর্মসংস্থানে উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানে ধারণা, পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করা খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। কেননা দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধ ও পুঁথিগত পড়াশুনার কারণে যুবসমাজ জীবিকা বলতে চাকরিকে বুঝে থাকে। তাই তাদেরকে ধারণা দিতে এবং উদ্বুদ্ধ করতে বোঝাতে হবে কোনো পেশাই ছোট বা অপমানের নয়।
সুতরাং তাদেরকে প্রচারের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে হবে। তবেই মেরিনার মতো বেকার যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নতি করতে পারবে। অতএব, উদ্দীপকের মেরিনা চাকমার জীবনে মামাপ্র“ চাকমার পরামর্শই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৫
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনাব আবুল হোসেন একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি বিসিএস পরীক্ষায় সফলতা লাভের পর ২০০৮ সালে প্রশাসন বিভাগে যোগদান করে বর্তমানে জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার জেলায় তিনি বেকার যুবকদের বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে উৎসাহিত ও সহায়তা করেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে চাকরির বিকল্প উপায়। অতএব, চাকরির জন্য সময় নষ্ট না করে আমাদের যে সম্পদ আছে তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলাই সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
ক. কর্মসংস্থান কী?
খ. “আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে চাকরির বিকল্প সম্মানজনক পেশা”Ñ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. জনাব আবুল হোসেন কোন কারণে বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ দেন? বর্ণনা কর।
ঘ. জনাব আবুল হোসেনের পরামর্শটি বেকার যুবকদের গ্রহণ করা উচিত কি না? মতামত দাও।
উত্তর ক: কর্মসংস্থান হলো কোনো কাজের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহের জন্য অর্থ অর্জনের ব্যবস্থা।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে চাকরির বিকল্প সম্মানজনক পেশাÑ উক্তিটি যথার্থ।
নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা হলো আত্মকর্মসংস্থান। আর চাকরি হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বা বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুযোগÑসুবিধার বিনিময়ে নিজস্ব শ্রম বিনিয়োগ। উভয় পেশা কর্মসংস্থান হলেও একটি আরেকটির বিকল্প। চাকরিতে নির্দিষ্ট শ্রমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায়। অন্যদিকে, আত্মকর্মসংস্থানে শ্রম নিয়োগের পরিমাণ যেমন নির্দিষ্ট নয় তেমনি উপার্জনের পরিমাণও নির্দিষ্ট নয়; তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও চাকরির থেকে বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে এবং সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ারও সুযোগ আছে। তাই আত্মকর্মসংস্থান চাকরির বিকল্প সম্মানজনক পেশা।
উত্তর গ: জনাব আবুল হোসেন বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেই সুশিক্ষিত সচেতন ব্যক্তি হিসেবে বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ দেন।
স্বাধীন সত্তা বজায় রেখে জীবিকানির্বাহের জন্য আত্মকর্মসংস্থান গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাতে চাকরির সুযোগ সীমিত বিধায় আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি বিদ্যমান, তবু এটা একটি সম্মানজনক পেশা।
উদ্দীপকের জনাব আবুল হোসেন একজন জেলা প্রশাসক। তিনি বুঝতে পারেন একটি দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশে সমস্যার অন্ত নেই। তার মধ্যে বেকার সমস্যা অন্যতম। একটি উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহজ নয়। চাকরির সংখ্যা ইচ্ছা করলেই বৃদ্ধি করা যায় না; কারণ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগের সৃষ্টি না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রয়োজন অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বেকার সমস্যা দূরীকরণে আত্মকর্মসংস্থান ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বৃত্তিমূলক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত যুবকদের বিভিন্ন বৃত্তিতে দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। এজন্য সুসংগঠিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তাই দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেই একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই জনাব আবুল হোসেন বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ দেন।
উত্তর ঘ: জনাব আবুল হোসেনের পরামর্শটি বেকার যুবকদের গ্রহণ করা উচিত।
আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে চাকরির বিকল্প সম্মানজনক পেশা। খনিজ, বনজ ও কৃষিজ দেশের সকল সম্পদ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন নতুন উপযোগ সৃষ্টি করা যায়। এর মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
জনাব আবুল হোসেন চাকরির জন্য সময় নষ্ট না করে আমাদের দেশের যে সম্পদ আছে তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে যুবসমাজকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে দেশ গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সম্পদ হচ্ছে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলভিত্তি। মানবসম্পদকে ব্যবহার করে বস্তুগত সম্পদের উপযোগিতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করাই একটি দেশের অর্থনীতির মূল লক্ষ্য।
নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, উদ্ভাবনীশক্তি, দক্ষতা প্রভৃতি গুণ কাজে লাগিয়ে বস্তুগত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের উপায় বের করা সম্ভব। এতে একই সাথে মানবসম্পদ এবং বস্তুগত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়। চাকরির ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রম বিনিয়োগ করা হয়। এতে ব্যক্তির শ্রমশক্তির পরিপূর্ণ ব্যবহার হয় না, উদ্ভাবনীশক্তি বিকাশেরও সুযোগ থাকে না, ফলে নতুন সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় না। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার যুবক স¤প্রদায় তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে নিজের ও দেশের উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
সুতরাং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে নিজস্ব কর্মক্ষমতাকে ব্যবহার করে বস্তুগত সম্পদের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আবুল হোসেনের পরামর্শটি যুবকদের গ্রহণ করা উচিত।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৬
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অলি শিক্ষিত বেকার যুবক। তিনি নিজ শহর সিরাজগঞ্জের একটি ব্যস্ততম এলাকায় রাস্তার পাশে একটি খাবারের হোটেল স্থাপন করেন। অলি হোটেল ব্যবসায় পরিচালনার জন্য তিনজন কর্মচারী নিয়োগ করেন এবং নিজেই সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। অতএব অলির মতো অনেক বেকার যুবক আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ক. কর্মসংস্থানকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
খ. কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস বলতে কী বোঝায়?
গ. অলির মতো অনুরূপ ব্যবসায় স্থাপন করতে হলে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করতে হবে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দেশের কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে অলির মতো উদ্যোগ কতটুকু কার্যকর? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ক: কর্মসংস্থানকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
উত্তর খ: কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমজীবী ও চাকরিজীবী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থানের চাহিদা যে হারে বৃদ্ধি পায় যেস হারে কর্মসংস্থানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিæ, মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের বহু কর্মীর প্রয়োজন হয়। তাছাড়া নিরাপত্তা, নিয়মিত আয়, প্রমোশন ও নিয়মিত সুযোগÑসুবিধা থাকায় চাকরি সকলের নিকট আকর্ষণীয়। তাই চাকরিই কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস।
উত্তর গ: অলির মতো অনুরূপ ব্যবসায় স্থাপন করতে হলে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা, ব্যবসায় সম্পর্কিত জ্ঞান, ঝুঁকি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
কর্মসংস্থানের বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হোটেল ব্যবসায় হলো আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান। কারণ, নিজ দক্ষতা ও গুণাবলির দ্বারা হোটেল ব্যবসায়ের মাধ্যমে সেবা দানের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা অর্জন করা যায়। এর মাধ্যমে নিজের কাজের পাশাপাশি আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জনাব অলির মতো অনুরূপ হোটেল ব্যবসায়টি স্থাপন করতে হলে প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে আইনের দৃষ্টিকোণ হতে ব্যবসায়টি বৈধ না অবৈধ। ব্যবসায়টি অবশ্যই বৈধ হওয়া আবশ্যক। ব্যবসায়টি স্থাপনের পর এটা দিয়ে কোন উদ্দেশ্য পূরণ হবে সেটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে। পরিচালিত ব্যবসায়টি পরিচালনার জন্য প্রাসঙ্গিক জ্ঞান যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু অর্জিত হবে কি না তাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ের হিসাব কীভাবে সংরক্ষিত হবে সে সম্পর্কে পূর্ব ধারণা লাভ করতে হবে। বিক্রয় সঠিকভাবে না হলে সকল পরিকল্পনা ও শ্রম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এজন্য সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
উত্তর ঘ: কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে অলির মতো উদ্যোগ যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করি।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশার কোনো বিকল্প নেই। পেশায় নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমে নিজের ও দেশের অগ্রগতি ঘটানো সম্ভব। বাণিজ্যিক বিশ্বে কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে ব্যবসায় উদ্যোগ সর্বাধিক আলোচিত ও স্বীকৃত বিষয়। বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি নিয়ে নিজ উদ্যোগে একটি ব্যবসায় সংগঠন স্থাপন বা পরিচালনা করে জীবিকানির্বাহের পথই ব্যবসায় উদ্যোগ। ব্যাংক, বিমা, হোটেল, পরামর্শদান প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান সেবাদানকারী ব্যবসায়ের উদাহরণ।
উদ্দীপকের অলির মতো শিক্ষালাভ করে বেকার বসে না থেকে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে ব্যবসায় উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা অসীম এবং এ পেশা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে অলির মতো যত উদ্যোক্তার সৃষ্টি হবে ততই নতুন নতুন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হবে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সৃষ্টি হবে। ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব হ্রাস পাবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের দ্বারা মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
এভাবে ব্যবসায় উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের বেকার সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং অধিক পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ফলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব হবে। তা ছাড়া বেকার যুবসমাজকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ, যেমনÑ চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসের মতো ঘৃণ্য অসামাজিক কাজ থেকে বিরত থাকতে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, বেকার যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানের দিকে এগিয়ে এলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেকার যুবসমাজের উচিত মূল্যবান সময় নষ্ট না করে অলির মতো স্ব স্ব প্রচেষ্টাঢ়য় কর্মসংস্থানে উদ্যোগী হওয়া।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৭
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
খালেদা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তার স্বামীর একার আয়ে অনেক কষ্টে তাকে সংসার চালাতে হয়। খালেদা নিজে কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা করল। পরবর্তীতে সে স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে পোশাক তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে সে নিজ বাড়িতেই ‘জয় টেইলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বাড়তি আয়ের সৃষ্টি করে এবং গ্রামের অন্যান্য গৃহিণীদেরও আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করে তোলে।
ক. আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জন করে?
খ. আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
গ. খালেদা বেগমের মতো গ্রামের অন্য গৃহিণীদের কোন উপায়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. খালেদা বেগমের কার্যক্রমটি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ক: আত্মÑপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জন হলো আত্মকর্মসংস্থান।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থান হলো নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। আত্মকর্মসংস্থান বেকার সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দরিদ্রতা হ্রাস করে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। জনশক্তি সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সাধন করা যায়। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যুবসমাজকে স্বেচ্ছামূলক কাজে উৎসাহিত করা যায়। তা ছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণ সমাজ নানাবিধ সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত না থেকে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
উত্তর গ: খালেদা বেগমের মতো গ্রামের অন্যান্য গৃহিণীদের টিভি, রেডিও ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে সকল উদ্যোক্তাদের ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রচারসহ সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করা যায়।
দেশের ভয়াবহ বেকার সমস্যা সমাধানে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে গৃহিণীদেরকে আত্মÑকর্মপ্রচেষ্টায় উদ্যোগী বা উৎসাহিত করা যায়। কারণ, দিন দিন শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অবশ্য চাকরির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। অর্থাৎ আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করাই এখন প্রধান কাজ।
উদ্দীপকের খালেদার মতো গ্রামের অন্য গৃহিণীরাও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতে পারে। খালেদা বেগমের স্বামী একজন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক। স্বল্প আয়ে তাদের সংসার চলে না। তাই খালেদা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে পোশাক তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতেই ‘জয় টেইলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে। এতে তাদের পরিবারে সচ্ছলতা আসে। অতএব, গ্রামের গৃহিণীদের বোঝাতে হবে যে, আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ সম্মানজনক। এক্ষেত্রে গ্রামের গৃহিণীদের উপযোগী আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে তাদেরকে সেসব ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যেন প্রয়োজনীয় ঋণসুবিধা এবং দ্রুত যথাযথ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারে সেজন্য উপদেশ বা পথনির্দেশনা দিতে হবে। টিভি, রেডিও ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তাদের ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রচার করতে হবে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ শাখা বা সেল স্থাপন করতে হবে। আত্মকর্মসংস্থানে সাফল্যলাভকারী নারীদের পুরস্কার ও স্বীকৃতিদানের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি উলেখিত ব্যবস্থাসমূহ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে খালেদার মতো গ্রামের অন্য গৃহিণীরাও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।
উত্তর ঘ: খালেদা বেগমের কার্যক্রমটি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে অনুসরণীয়।
দেশের শহর এলাকাগুলোতে স্বল্প সংখ্যক নারীদের আয়Ñরোজগারমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেলেও গ্রামে এদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। গ্রামীণ পরিবেশে মহিলাদের ঘরের বাইরে কাজ করা সমাজে নিন্দনীয়। এভাবে সমাজে নারীদের নিরুৎসাহিত করা হয়। এমতাবস্থায় আত্মকর্মসংস্থানই নারীদের একমাত্র মুক্তির পথ।
উদ্দীপকের খালেদা বেগমের মতো আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে কীভাবে নিজেকে কর্মে নিয়োগ করা যায় তা সমাজের অন্যান্য মহিলাদের বোঝাতে হবে। তাহলে একজন গৃহিণী ঘরে বসেই হাঁস মুরগি পালন, জাল বুনন, পোশাক তৈরি প্রভৃতি কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করতে পারে। এর জন্য তাদের ঘরের বাইরে যেতে হবে না। একমাত্র আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমেই গৃহিণীরা বাড়তি আয়ের সুযোগ করে নিতে পারে। সমাজেরও কোনো আপত্তি থাকবে না। এর ফলে বেকারত্ব যেমন দূর হবে তেমনি জনশক্তির সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া দারিদ্র্য দূরীকরণেও গৃহিণীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
খালেদা বেগমের কার্যক্রমের মতো সমাজের সবার অংশগ্রহণে দেশের বেকার সমস্যাই শুধু নিরসন হবে তা নয়Ñ সামাজিক অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে দেশকে বাঁচানো যাবে। তাই এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ হবে বাঞ্ছনীয়।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৮
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনাব আরিফুল ইসলাম বি এস করেছেন। কর্মসংস্থানের জন্য তিনি চাকরির বিকল্প হিসেবে আত্মকর্মসংস্থানের কথা ভাবছেন। কারণ আত্মকর্মসংস্থানে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় এবং অধিক আয়ের সুযোগ হয়। তিনি যুব উন্নয়ন থেকে মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের পুকুরে মাছ চাষ শুরু করলেন। কাঙ্খিত লাভের তুলনায় অধিক আয় দেখে তিনি আরও কতিপয় পুকুর ইজারা নিয়ে ব্যবসায় স¤প্রসারণে আগ্রহী হলেন।
ক. চাকরি কী?
খ. শিক্ষিত বেকার যুবকরা কেন আত্মকর্মসংস্থানের কথা ভাবেন?
গ. জনাব আরিফুল ইসলাম তার কর্মকান্ডে কোন ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন? বর্ণনা কর।
ঘ. “জনাব আরিফুল ইসলামের ব্যবসায় স¤প্রসারণের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক” মতামত দাও।
উত্তর ক: চাকরি হলো কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বা বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে কর্মসংস্থান।
উত্তর খ: সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাকরির বিকল্প হিসেবে আত্মকর্মসংস্থানের কথা ভাবে।
চাকরির আয় সীমিত, অন্যের অধীনে কাজ করতে হয় বলে স্বাধীনতা থাকে না, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সীমিত। তাছাড়া বাংলাদেশে চাকরির সুযোগও সীমিত। অপরদিকে আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশায় আয়ের সম্ভাবনা অধিক, স্বাধীন পেশা, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি সুযোগÑসুবিধা রয়েছে।
তাই শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির বিকল্প হিসেবে আত্মকর্মসংস্থানের কথা ভাবেন।
উত্তর গ: উদ্দীপকের জনাব আরিফুল ইসলাম আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশা গ্রহণের ফলে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করবেন।
আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। যার ফলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হয় এবং মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। তবে আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে।
জনাব আরিফুল ইসলামের ব্যবসায় সাফল্য অর্জনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাহায্য পাবেন। এজন্য পরিবারের সদস্যরা ব্যবসায়ের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবেন। তিনি পারিবারিক সম্পত্তির বিকল্প সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অধিকতর পেশাগত উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় তিনি ব্যবসায়ের কার্যাবলির সহজ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মক্ষমতার অধিকতর কার্যকর ব্যবহার করতে পারবেন।
উত্তর ঘ: জনাব আরিফুল ইসলামের ব্যবসায় স¤প্রসারণের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।
আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে মজুরি বা বেতনভিত্তিক চাকরির বিকল্প পেশার অন্যতম উপায়। প্রতিষ্ঠান যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে সফলতা অর্জন মাত্র সময়ের ব্যাপারে। কাঙ্খিত লাভের তুলনা অনেক সময় অধিক লাভও হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান স¤প্রসারণ করতে হয়।
জনাব আরিফুল ইসলাম যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পুকুরে মাছ চাষ শুরু করলেন। তিনি কাঙ্খিত লাভের তুলনায় অধিক লাভ করেন। লাভে সন্তুষ্ট হয়ে তার মাছ চাষের প্রতি অনেক আগ্রহ লক্ষ করা যায়। তিনি আরও কতিপয় পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করলেন। বর্তমানে তিনি মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, দেশের বেকার সমস্যার সন্তোষজনক সমাধানের লক্ষ্যে উপযুক্ত আত্মকর্মসংস্থানে মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। কারণ আত্মকর্মসংস্থানে মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নতুন
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ০৯
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনাব আরমান ও জনাব জামান দুই ভাই। জনাব আরমান প্রথমদিকে চাকরির চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে একটি এনজিও থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। তীব্র আকাঙ্খা, চেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রমের দরুণ তিনি আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্যদিকে, জনাব জামান অনেক চেষ্টা তদবির করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী হিসাবরক্ষকের চাকরি পেয়েছেন। কর্মদক্ষতা, কর্তব্যজ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার জন্য নিয়োগকর্তা তাকে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র হিসাবরক্ষক পদে পদোন্নতি দিয়েছেন দুজনেরই এখন গ্রামে আলাদা আলাদা সম্মান সৃষ্টি হয়েছে।
ক. চাকরির বিকল্প পেশা কী?
খ. আত্মকর্মসংস্থান থেকে চাকরি ভিন্ন কেন?
গ. জনাব আরমানের সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ এবং গ্রহীত ঋণ কতটা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে?
ঘ. জনাব আরমানের আত্মকর্মসংস্থানের সফলতা অর্জন এবং জনাব জামানের চাকরিতে পদোন্নতিÑ দুটির তুলনামূলক মূল্যায়ণ কর।
উত্তর ক: চাকরি ব্যতীত অন্য কোনো কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের উপায়ই হলো চাকরির বিকল্প পেশা।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থান একটি স্বাধীন পেশা হওয়ায় এটি চাকরি থেকে ভিন্ন।
আত্মকর্মসংস্থান হলো নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্প পুঁজি, জ্ঞান, দক্ষতা, ও ন্যূনতম ঝুঁকি দ্বারা জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করা। আর চাকরি হলো কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বা বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুযোগÑসুবিধার বিনিময়ে কর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থানে নিজেই নিজের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করতে হয়। এক্ষেত্রে আয়ের ধারাবাহিকতা নেই এবং লোকসানের দায়ও বহন করতে হয়। অপরপক্ষে, চাকরির ক্ষেত্রে অন্যের সৃষ্ট কর্মে শ্রম নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে আয় নিয়মিত এবং লোকসানের দায় বহন করতে হয় না।
উত্তর গ: জনাব আরমানের সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও গৃহীত ঋণ যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ব্যক্তি তাত্তি¡ক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। আর ঋণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ হলো মালিকের ব্যবসায়ের মূলধন। মূলধন হচ্ছে কার্যের চালিকাশক্তি। তাই তাত্তি¡ক বা ব্যবহারিক জ্ঞান যাই থাকুক না কেন পর্যাপ্ত মূলধন না হলে তা প্রয়োগ করা অসম্ভব।
উদ্দীপকের আরমান বিএ পাস করলেও মাছ চাষের ওপর অর্থাৎ মাছের জাত, খাবার, বংশবিস্তার, রোগ প্রতিরোধের উপায় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তার কোনো ব্যবহারিক জ্ঞান বা পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অথচ এসব হচ্ছে মাছ চাষে সফলতা অর্জনের পূর্বশর্ত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা অর্জনই আরমানকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মাছ চাষে উৎসাহিত করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানই তার কার্যে সফলতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে ঋণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আরমান তার কার্যের পরিধি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে, নিজের ভিতর সব সময় এই তাগিদ থাকায় তিনি তার কার্যে সফলতা অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন। কাজেই একই সাথে ঋণ তার মূলধন প্রবাহ এবং সফলতা অর্জনের তাগিদদাতা হিসেবে কাজ করছে।
উত্তর ঘ: জনাব আরমানের আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম অপরদিকে জনাব জামানের পেশাগত দক্ষতা সফলতা অর্জনে কাজ করেছে।
জনাব আরমান নিজস্ব পুকুরে মাছ চাষের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ শুরু করেন। প্রশিক্ষণ, চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম তাকে তার কাজে সফলতা অর্জনে সহায়তা করেছে। পক্ষান্তরে, জনাব জামান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী হিসাবরক্ষকের পদে তার কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মদক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা আর যোগ্যতার দরুন তিনি তার পেশা উচ্চপদে আসীন হয়েছেন। দুজনই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং সফল হয়েছেন।
জনাব জামান তার কাজে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। কোনোরূপ ঝুঁকি বা লোকসানের দায়দায়িত্ব তাকে বহন করতে হয় না। শ্রমের পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকায় তার শ্রমশক্তি এবং সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। অন্যদিকে জনাব আরমানের কাজে সাফল্যের ক্ষেত্রে ছিল ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। সাফল্য বা ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার তাকে বহন করতে হবে বলে তিনি সফলতার জন্য তার সর্বোচ্চ মেধা, যোগ্যতা, শ্রমের প্রয়োগ ঘটিয়েছে। চেষ্টা, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের দরুন তিনি তার কাজের সকল অনিশ্চয়তা দূর করে সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। নিজের পাশাপাশি আরও কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সামাজিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অবদান রেখেছেন।
আরমান ও জামান দুজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন এবং মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী। তবে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আরমানের মতো আত্মকর্মসংস্থানকারী উদ্যোক্তার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে তা অনস্বীকার্য।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ১০
নিচের অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনাব আরাফাত রহমান প্রথম জীবনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এক্ষেত্রে আয় নিশ্চিত থাকলেও চাহিদার তুলনায় কম ছিল। তাই তিনি বিকল্প পেশা হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করেন। এ থেকে যে অর্থ প্রাপ্তি ঘটত তা দিয়ে তিনি মোটামুটি ভালোভাবে দিনযাপন করতে পারতেন। এতে যেমন ঝুঁকি ছিল তেমনি পর্যাপ্ত আয়ের সম্ভাবনাও ছিল। তিনি প্রথমে খুব ছোট ব্যবসায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বর্তমানে দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ক. আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
খ. আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।
গ. জনাব আরাফাত রহমান কোন ধরনের সামাজিক সুবিধা ভোগ করেন? বর্ণনা কর।
ঘ. জনাব আরাফাত রহমানের বিকল্প পেশা হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় গ্রহণের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ক: আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচনের ওপর।
উত্তর খ: আত্মকর্মসংস্থান হলো নিজের কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্প পুঁজি, জ্ঞান, দক্ষতা ও ন্যূনতম ঝুঁকি দ্বারা জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করা।
আর ক্ষুদ্র ব্যবসায় হলো এমন এক ধরনের ব্যবসায় যেখানে একজন মালিক স্বল্প মূলধন ও শ্রমিক নিয়ে স্থানীয় চাহিদা ও বাজার বিবেচনা করে ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করে। আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য হলো পুঁজির পরিমাণ। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য স্বল্প পুঁজিই যথেষ্ট। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য বেশি পরিমাণ পুঁজি প্রয়োজন; যদিও এর পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি নয়।
উত্তর গ: জনাব আরাফাত রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে যথেষ্ট সম্মান, প্রতিপত্তি লাভসহ বিভিন্ন সামাজিক সুযোগÑসুবিধা ভোগ করে থাকেন।
নিজ উদ্যোগে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করে জীবিকা অর্জনের উপায়ই ব্যবসায় উদ্যোগ। এক্ষেত্রে মালিক নিজেই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন বা ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ করে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন। এ ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভাবনা অধিক।
উদ্দীপকের জনাব আরাফাত রহমান ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থাপন করে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনাবলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। এজন্য সামাজিক ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্নমুখী সুবিধা ভোগ করেন। এক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সম্মান ও প্রতিপত্তি লাভ করেন। নতুন সম্পত্তি অর্জন ও অর্জিত সম্পত্তি বিকাশ করতে পারেন। নতুন সম্পত্তি অর্জন ও অর্জিত সম্পত্তি বিকাশ করতে পারেন। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাপ থেকে অব্যাহতি পান। তিনি নিজ নামে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন বলে সমাজ ও সমাজের সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের সুযোগ পান। তাই তিনি নিজেকে সমাজের নিকট দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
উত্তর ঘ: জনাব আরাফাত প্রথমে চাকরি করলেও পরবর্তীতে বিকল্প পেশা হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করার যৌক্তিকতাটি ছিল যথার্থ।
কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে আত্মকর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা অধিক। নিজ উদ্যোগে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থান ও পরিচালনা করে জীবিকা অর্জনের উপায়ই আত্মকর্মসংস্থান। তাই এক্ষেত্রে মালিক নিজেই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন বা ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ করে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারেন।
জনাব আরাফাত রহমান জানতেন চাকরির তুলনায় আত্মকর্মসংস্থান থেকে আয় উপার্জনের সম্ভাবনা সীমাহীন। শিল্পোদ্যোগ বা ব্যবসায় উদ্যোগের ইতিহাস থেকে জানতে পারলেন, অনেকেই অতি সামান্য মূলধন নিয়ে ব্যবসায় শুরু করে ক্রমে ক্রমে সেই ব্যবসায় স¤প্রসারিত হয়ে বিশাল সম্পদের অধিকারী হয়েছেন। উদ্দীপকের জনাব আরাফাত রহমান যদিও প্রথমত পেশা হিসেবে চাকরি করেছিলেন, কিন্তু তাতে চাহিদার তুলনায় আয় কম হওয়াতে তিনি চাকরি ছেড়ে বিকল্প পেশা হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করলেন। ফলে ক্রমে তিনি ব্যবসায় ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সুতরাং আমাদের দেশের প্রকট বেকার সমস্যার প্রেক্ষিতে জনাব আরাফাত রহমানের ব্যবসায়কে বিকল্প পেশা হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি অনন্য কৌশল বলে অভিহিত করা যায় এবং এর যৌক্তিকতাও রয়েছে।
আমাদের গাইডলাইন সর্বোচ্চ রেজাল্ট নিশ্চিত করে !
যোগাযোগঃ 01872961270



0 Comments