ব্যবসায় উদ্যোগ

অধ্যায় ০১: ব্যবসায় পরিচিতি

জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর:





  ১ প্রশ্ন: ব্যবসায় কী?

উত্তর: সাধারণত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলা হয়।

২ প্রশ্ন: ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা।

৩ প্রশ্ন: বাণিজ্য কী?

উত্তর: শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা সামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলীকে বাণিজ্য বলে।

৪ প্রশ্ন: উদ্যোগ কী?

উত্তর: উদ্যোহ হলো যেকোনো কাজের কর্মপ্রচেষ্টা।

৫ প্রশ্ন: শিক্ষা কোন পরিবেশের উপাদান?

উত্তর: শিক্ষা সামাজিক পরিবেশের উপাদান।

৬ প্রশ্ন: ব্যাংকিং ব্যবস্থা কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত?

উত্তর: ব্যাংকিং ব্যবস্থা সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

৭ প্রশ্ন: শিল্পকে প্রধান কয়ভাবে ভাগ করা হয়েছে?

উত্তর: শিল্পকে প্রধানত ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

৮ প্রশ্ন: কোনো বস্ত্রের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল?

উত্তর: মসলিন কাপড়ের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছাড়িয়ে পড়েছিল।

 প্রশ্ন: পণ্যের বণ্টনকারী শাখা কী?

উত্তর: পণ্যের বণ্টনকারী শাখা হলো বাণিজ্য।

৯ প্রশ্ন: ব্যবসায়ের ক্রমবিকাশের যুগ কয়টি?

উত্তর: ব্যবসায়ের ক্রমবিকাশের যুগ হলো তিনটি।

১০ প্রশ্ন: ব্যবসায়কে প্রধানত কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?

উত্তর: ব্যবসায়কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১১ প্রশ্ন: আধুনিক ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ শাখা কোনটি?

উত্তর: আধুনিক ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল প্রত্যক্ষ সেবা।

১২ প্রশ্ন: ব্যবসায় সংগঠনের উদ্ভব ঘটে কখন?

উত্তর: ব্যবসায় সংগঠনের উদ্ভব ঘটে মধ্যযুগে।

 ১৩ প্রশ্ন: উৎপাদনের বাহন কী?

উত্তর: উৎপাদনের বাহন হলো শিল্প।

১৪ প্রশ্ন: আমেরিকার ফোর্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর: আমেরিকার ফোর্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হলেন হেনরি ফোর্ড।

 ১৫ প্রশ্ন: ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি কী? 

উত্তর: ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি মূলধন।

১৬ প্রশ্ন: একটি দেশের উন্নতি চালিকাশক্তি কোনটি?

উত্তর: একটি দেশের উন্নতির চালিকা শক্তি ব্যবসায়।


অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর:

  প্রশ্ন: শিল্প বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।

উত্তর: শিল্প বলতে এমন প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, কাঁচামালে রূপদান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা।

যেমন নার্সারি শিল্প, খনিজ শিল্প, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বস্ত্র শিল্প, বিদ্যুৎ শিল্প ইত্যাদি কাজসমূহ বিভিন্ন প্রকার শিল্পের উদাহরণ। এরূপ বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন পণ্যে পরিণত করা হয়।

  প্রশ্ন: ব্যবসায়িক পরিবেশ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: ব্যবসায়িক পরিবেশ বলতে যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে ব্যবসায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে বোঝায়।

ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা গঠিত হয়। ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড দ্বারাও প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই ব্যবসায়িক পরিবেশ বিবেচনায় স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, বনভূমি, প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, ঘনবসতি, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থাসমূহ বিবেচনায় আনতে হয়।

 প্রশ্ন: উৎপাদন শিল্প বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল বা অর্ধপ্রস্তুত পণ্যকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করা হলো উৎপাদন শিল্প।

উৎপাদন শিল্পের কাজ হলো কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করা। উদাহরণস্বরূপ কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে আচার, জেম, জেলি প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত এবং কাঠ থেকে আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিল, আলমারি ইত্যাদি প্রস্তুত করা উৎপাদন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

পণ্যসামগ্রী উৎপাদন স্থান থেকে ভোক্তার নিকট সরবরাহ পর্যন্ত সব কাজ নিয়ে বাণিজ্যের আওতা বা পরিধি বিস্তৃত।

  প্রশ্ন: বাণিজ্যের আওতা ও পরিধি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পণ্যসামগ্রী উৎপাদন স্থান থেকে ভোক্তার নিকট সরবরাহ পর্যন্ত সব কাজ নিয়ে বাণিজ্যের আওতা বা পরিধি বিস্তৃত।

 বাণিজ্যের কাজ হলো পণ্যদ্রব্য বা সেবাসামগ্রী বিনিময় বা বণ্টন করা। বাণিজ্যের মাধ্যমেই পৃথিবীর এক প্রান্তে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী অপর প্রান্তে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো ও ভোগ করা সম্ভব হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিনিময় ও বৈদেশিক বিনিময় এ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বীমা, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি বিনিময় সহায়ক কার্যাবলি বাণিজ্যের পরিধি বা আওতা হিসেবে পরিচিত।

   প্রশ্ন: ব্যবসায়ের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: ব্যবসায়ের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো মুনাফার উদ্দেশ্যে সম্পদ আহরণ, উৎপাদন, বণ্টন ও এদের সহায়ক কার্যাবলি।

তবে বিভিন্ন প্রকার সম্পদ আহরণ, কাঁচামালকে পরিণত পণ্যে রূপান্তরকরণ এবং ক্রেতা বা ভোক্তাদের নিকট পণ্যদ্রব্য ও সেবাদি বণ্টনের নিমিত্তে স্বত্বগত, স্থানগত, সময়গত প্রভৃতি উপযোগ সৃষ্টিকরণ ব্যবসায়ের অন্তর্গত। উপরন্তু পণ্য গবেষণা, বাজার গবেষণা, বিক্রয়িকতা ইত্যাদি সহায়ক কার্যকলাপ এবং প্রত্যক্ষ সেবামূলক পেশাদারি কার্যকলাপও ব্যবসায়ের উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।

 প্রশ্ন: ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ব্যবসায় ঝুঁকি হলো কাঙ্খিত মুনাফা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া। ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। যেকোনো সময় উৎপাদিত পণ্যের অথবা সরবরাহকৃত সেবার চাহিদা কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্জিত মুনাফা কমে যেতে পারে। এই সম্ভাবনাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে।

 প্রশ্ন: পণ্যের গুদামজাতকরণ প্রয়োজন কেন?

উত্তর: বাণিজ্যের অন্যতম উপাদান হলো গুদামজাতকরণ। গুদামজাতকরণ ব্যবসায়ের সময়গত প্রতিবন্ধকতা দূর করে। কিছু পণ্য আছে যেগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জন্মায় কিন্তু এগুলোর সারা বছরব্যাপী চাহিদা থাকে। এসকল পণ্য সংরক্ষণ না করলে বছরব্যাপী চাহিদা মেটানো যায় না। এজন্য গুদামজাতকরণের মাধ্যমে পণ্যের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করে চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

 প্রশ্ন: নিষ্কাশন শিল্প বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যে শিল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ, পানি বা বায়ু হতে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হয় তাকে বলা হয় নিষ্কাশন শিল্প। এ শিল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ হতে খনিজ তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি উত্তোলন এবং সমুদ্র থেকে মৎস্য, মূল্যবান পাথর সংগ্রহ করা হয়।

  প্রশ্ন: ব্যবসায়িক পরিবেশের উপাদান কী কী? লেখ।

উত্তর: ব্যবসায়িক পরিবেশের উপাদানগুলোকে প্রধানত ছয়ভাগে ভাগ করা যায়। যথা (১) প্রাকৃতিক পরিবেশ, (২) অর্থনৈতিক পরিবেশ, (৩) রাজনৈতিক পরিবেশ, (৪) সামাজিক পরিবেশ (৫) আইনগত পরিবেশ, (৬) প্রযুক্তিগত পরিবেশ।

   প্রশ্ন: মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: অর্থের সাথে সম্পর্কিত কার্যাবলি হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। মানুষের অভাব সীমাহীন কিন্তু সম্পদ সীমিত। সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সীমাহীন অভাব পূরণের চেষ্টা করে। অভাব পূরণের লক্ষ্যেই মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, অভাববোধ এবং তা পূরণের প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সৃষ্টি করে।

  প্রশ্ন: শিল্প কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, রূপান্তর এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাঁচামালকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা হয়। তাকে শিল্প বলা হয়।

শিল্পকে প্রধান পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা (১) প্রজনন শিল্প, (২) নিষ্কাশন শিল্প, (৩) নির্মাণ শিল্প, (৪) উৎপাদন শিল্প এবং (৫) সেবা শিল্প।

প্রশ্ন: পর্যায়িত ও প্রমিতকরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পণ্যকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী সাজানো, যেমন আমকে আকৃতির ভিত্তিতে বড়, মাঝারি ও ছোট করে বিভক্ত বা বাছাই করা হলো পর্যায়িতকরণ। এছাড়া বিক্রয়ের সুবিধার্থে অনেক সময় পণ্যাদি সাইজ অনুসারে বিভিন্নভাবে বাছাই করা হয়, যা পর্যায়িতকরণ বা এৎধফরহম  নামে পরিচিত। অন্যদিকে পণ্যের মান নির্দিষ্টকরণকে প্রমিতকরণ বলে। যেমন বিভিন্ন মানের সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করা হয়, যেমন ৪০ কাউন্টের সুতা, ৮০ কাউন্টের সুতা ইত্যাদি।

 প্রশ্ন: প্রত্যক্ষ সেবা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে পেশাদারি বিশেষজ্ঞরা যেসব সেবামূলক কার্যসম্পাদন করে থাকে সেগুলোকে প্রত্যক্ষ সেবা বলা হয়। যেমন ডাক্তারি, আইনবৃত্তি, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট এবং হিসাব নিরীক্ষা পেশা ইত্যাদি।